ব্রেইন রট: মস্তিস্কের ভয়াবহ এক লুপ।

একটা কাজে হঠাৎ করে নিজের ফোনটা হাতে নিলাম। কাজটা করতে আনুমানিক দুই মিনিট লাগতো। ইচ্ছা ছিলো কাজটা করেই ফোনটা রেখে দিবো। এই ভেবেই ফোনটা হাতে নিতেই সামনে ফেসবুকের একটা রিলস ভিডিও চলে আসলো।


কী থেকে কী হয়ে গেল জানি না। চোখের পলকেই এক ঘন্টা গায়েব। এখনো রিলস দেখেই যাচ্ছি। একটার পর আরেকটা। এভাবে চলছেই। আমি যে আসলে নিচের দিকে কি খুঁজছি তা আমি নিজেও জানি না। অবশেষে মনে হলো, আমি যেন কী কাজে ফোনটা হাতে নিয়েছিলাম?

এরকম ঘটনা শুধু কেবল আমার সাথেই ঘটে না। বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষের সাথেই এই ঘটনাটা ঘটে। কিভাবে এই ভিডিওগুলোর পেছনে হাজার হাজার ঘন্টা ব্যায় হয়ে যাচ্ছে তার খবরো কেউ রাখে না।
একটা মানুষ। চোখের সামনে মোবাইল ফোন। সামনে রিলস ভিডিও। সে আসলে কোন কারণে ভিডিও দেখছে তা সে নিজেও জানে না। অনলাইনে সে কি করছে সেটাও সে জানে না। যাস্ট টাইম পাস? টাইম কি এতোই ভ্যালুলেস হয়ে গেছে? এই ওয়েস্ট করা টাইমগুলো কি আর কখনো ফিরে আসবে?

বর্তমানের সোসাল মিডিয়ার বেশিরভাগ ভিডিওই সস্তা ও  স্টোরিলেস কন্টেন্ট। যার বেশিরভাগেরই আসলে কোন মানেই হয় না। এখন অনেকেই এই কথার দ্বিমত করে বলতে পারেন, কই। অনেক তথ্যবহুল ভিডিওই তো দেখানো হয়। তাকে সস্তা বলার মানে কি?
এখানেই আসে "ব্রেইন রট" নামের একটা টার্ম। "rot" মানে হচ্ছে "পচন ধরা"। এর অর্থ দাঁড়ায় সস্তা রিলসের প্রভাবে নিজের চিন্তাভাবনার পচন ধরা। আপনিও কি এই "ব্রেইন রট" নামক রোগের লুপে ফেঁসে গেছেন নাকি তা জানবেন কিভাবে?
ধরুন। আপনি আমার এই পোষ্টটি এখন পড়ছেন। এখন একটু ভেবেচিন্তে না দেখেই বলুন তো এই পোষ্টের ঠিক উপরে কোন পোষ্টটা ছিলো? সেটা কি মনে করতে পারছেন?

যদি মনে করতে না পারেন তাহলে আপনি ব্রেইন রটে আক্রান্ত। কারণ আপনি স্ক্রল করার সময় আপনার হাতটাই সচল। আপনার ব্রেন বন্ধ। আপনার ব্রেন কোন স্মৃতি মনে রাখছে না। তাই আপনি যতই তথ্যবহুল রিলস দেখেন না কেন। এটা আপনার কোন কাজেই আসবে না।

একটা মরীচিকার পেছনে প্রতিনিয়ত ছুটে যাচ্ছি আমরা। যতই নিচের দিকে নামছি, আনন্দ খোঁজার চেষ্টা করছি। কিন্তু পাচ্ছি না। হতাশই হচ্ছি বার বার। কিন্তু খুঁজে যাচ্ছি। কোন লক্ষ নেই, উদ্দেশ্য নেই। শুধু নিচের দিকে স্ক্রল করে মুল্যবান সময়গুলা স্কিপ করে যাচ্ছি।

#Abdul_Awal

Comments

Popular Posts