মায়াপরী

- আমার নিগা কিছু আনো নাই আইজকা?

ছোট্ট মেয়েটার মুখ থেকে কথাটা শুনে কিছুক্ষন থ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সুজন মিয়া। মেয়েটা প্রতিদিনই তার বাবাকে এই কথাটা বলে।

সুজন মিয়ার দুইটা ছেলে আর একটা মেয়ে। ছেলেদের নাম, মাসুদ আর মারুফ। মেয়েটার নাম মায়া। ক্লাস থ্রীতে পড়ে। বড় দুই ভাই সিক্সে পরে অন্য একটা স্কুলে। দুজন একসাথে স্কুলে যায়, একসাথে ফিরে আসে। এদিকে মায়ার হয়েছে ঝামেলা। প্রাইমারি স্কুলে পরে। একা একা স্কুল থেকে ফিরতে হয়। দূপুর ১২ টার সময়েও রাস্তার পাশের গোরস্থানটা অন্ধকার থাকে। গাছপালা যেন সব আলো শুষে নিয়েছে। সেই জায়গাটা মায়া দৌড়াতে দৌড়াতে আসে। অনেক ভয় পায়।

মায়া মনে মনে ভাবে, ইস! আমারও যদি একটা সমবয়সী বোন থাকত! এতো ভয় পেয়ে রাস্তা পার হওয়া লাগতো না।



- কই আব্বা! কিছু আনো নাই আমার নিগা?

সুজন মিয়া আমতা আমতা করতে করতে বলল, ভু...ভুইলা গেছি আনতে। কালকে আনিরো যাহ্‌! আমার গোছলের পানিটা এনে দেতো।

মায়া বলল, আব্বা! বড্ড মাথা ব্যাথা করতাছে। আজকে সারাদিন অনেক পরছি। তুমি একটু ভাইয়ারে আনতে কউ না...

সুজন মিয়া যেন মেয়ের প্রতি প্রচন্ড রেগে গেলেন। তারপর বললেন, অই, কি কইলি? পানি আনা কি পোলাগো কাম? ওইটা মাইয়াগো কাম না? যাহ্‌! পানি আন।

মায়া পানি আনতে গেল। টিউবয়েলটা অনেক শক্ত। চাঁপতে অনেক শক্তি লাগে। তারপরেও নিয়মিত বাবার জন্য পানি আনে। শীতের সময় মাঝে মাঝে চুলোয় গিয়ে পানি গরমও করে আনতে হয়। তবুও মেয়েটা করে। যতই বকুক। বাবা তো।


মায়া পড়তে বসেছে। ইচ্ছে করেই বসেছে। কিছুদিন পর ফাইনাল পরিক্ষা। নিজেই যতটুকু পারে। ততটুকুই পরে। কোন কিছু না বুঝলে স্যারদের কাছে বুঝে নেয়। দুইটা ভাই তবুও বোনটাকে একটু সাহাজ্য করে না। ওরা সারাক্ষন অদের নিয়েই ব্যাস্ত থাকে। একবার মায়া বলেছিলো, ওই ভাইয়া... এই অংকডা একটু বুজাইয়া দিবা? আমি পারতাছিনা।

মাসুদ বলল, সর তো এখান থিগা। দেখতাছত না লুডু খেলি।

- দেও না ভাই...

- চাপার মধ্যে থাপ্পর দিয়া কিন্তু দাঁত সবটি ভাইংগা ফালামু। চিনস আমারে? তর লিগা আমার ছক্কা মিস গেলো।

মায়া আর কথা বলে নি। চুপ করে সেখান থেকে চলে আসে। অংকটা না পারলে স্কুলের ফারজানা ম্যাডাম নাকি মারবে বলেছে। আসলেই যদি মারে? কেমন হবে তাহলে। ফারজানা ম্যাডাম অনেক জোরে মারে। যেখানে মারে, চামড়া লাল হয়ে ফুলে যায়। মায়ার মাঝে মাঝে প্রচন্ড কান্না করতে ইচ্ছা করে। কিন্তু এই সংসারটা মায়াকে কান্না করতে দেয় না। চোখের পানিটা বাঁধ ভেঙে বের হয়ে আসতে চায়। কিন্তু মনের শক্ত প্রাচির ভেঙে সেই কান্না আর চোখ দিয়ে বের হয় না। মনের ভেতরেই এক কোনে জড় হয়ে থাকে।


মায়াকে জন্ম দিতে গিয়ে মায়ার মা মারা যায়। তাই মাকে সে কখনো দেখে নি। মায়ের নাকি একটা ছবিও ছিল। কিন্তু ছবিটা নাকি হাড়িয়ে গেছে। তাই তার মায়ের মুখটা কখনো দেখা হয় নি। সুজন মিয়া মনে করে, তার ছোট মেয়েটা তার জন্য একটা অভিশাপ। হয়তো সে অতীতে কোন এক সময় কোন একটা ভুল কাজ করেছিল। সেই কাজের ফল এখন সে পাচ্ছে। সে মনে করে তার ঘড়ে একটা ডাইনি জন্মগ্রহণ করেছে। সে দুনিয়ার মুখ দেখতে না দেখতেই তার নিজের মাকে খুন করেছে। বড় হলে যে কি করবে আল্লায় জানে।


মায়া পরতে বসেছে তার মায়ের ঘড়ে। এটা তার মায়ের রুম ছিল। এখানেই মায়া ঘুমায়। অন্য রুমে সুজন মিয়া আর তার দুই ছেলে ঘুমায়। একা ঘুমাতে মায়ার মোটেও ভাল্লাগে না। স্কুলে মায়ার একটা বান্ধবী আছে। নাম প্রীতি। প্রীতির বাবা বিদেশ ছিল। তার বাবা নাকি বিদেশ থেকে প্রীতির জন্য একটা ল্যাপটপ আর একটা স্মার্ট ফোন নিয়ে এসেছে। সেটা দিয়ে নাকি সুন্দর ছবি উঠে। একদিন প্রীতি স্কুলের ব্যাগের মধ্যে ফোনটা লুকিয়ে ক্লাশে এনেছিল। সব ছেলেমেয়েরা দেখেছিল। শিক্ষকদের থেকে গোপন রেখে তারা সেই ফোন দিয়ে ছবিও তুলেছে। কয়েকটা গেমও ছিলো ফোনের মধ্যে। অ্যাংরি বার্ড, সাবওয়ে সার্ফেস, এরকম কয়েকটা গেম। মায়া নামগুলো ভুলে গেছে। মায়া মনে মনে ভাবে, ইস! আমারো যদি এরকম একটা মোবাইল থাকত। তাহলে কত্ত মজা হতো।


ক্লাসের সবচেয়ে খারাপ ছাত্র সুমন। লেখাপড়া একটুও করে না। সারা ক্লাস পেছনের ব্রেঞ্চে বসে আড্ডা দিয়ে আর কথা বলে কাঁটিয়ে দেয়। ফিউচারের কোন চিন্তা নাই। ইদানিং সে একটা লাল রঙের সাইকেল কিনেছে। খুব সুন্দর দেখতে। সুমন সমসময় চায়, সে একটা মেয়েকে সাইকেলের পেছনে বসিয়ে রাস্তা দিয়ে ঘুড়বে। সবাই দেখবে আর আফসোস করবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এটাই, কোন মেয়েই তার সাইকেলে উঠতে চায় না। সবাই ইগনোর করে। মায়া ভাবে, আমার এমন একটা সাইকেল থাকলে আমিও পেছনে ছেলেদের বসিয়ে প্রতিদিন স্কুলে নিয়ে আসতাম।


প্রীতির মা খুব ভালো। একবার মায়াকে একটা আইসক্রিম কিনে দিয়েছিলো। প্রীতি গল্প করে, সে নাকি এখনো তার মায়ের বুকে ঘুমায়। সেই গল্প শুনে মায়ার হিংসা হয়। আর ভাবে, আমার যদি মা থাকত, আমিও মায়ের বুকে ঘুমাতাম।


মায়া পড়তে বসেছে। পাশের রুমে তিন বাপ বেটায় গল্প করছে। দরজা বন্ধ করা। মায়া খেয়াল করছে, তাদের তিনজনের রুম থেকে পলিথিনের খচ খচ শব্দ হচ্ছে। কেন? বাবা কি খাওয়ার কিছু কিনে এনেছে? পাশের রুম থেকে মাসুদের গলার আওয়াজ শোনা গেল। মাসুদ বলল, আমাকে আরেকটু দেনা!

মাসুদ কি চাইছে? মায়া বিছানা থেকে উঠে পড়ল। টিনের মধ্যে একটা ফুঁটো আছে। সেই ফুঁটো দিয়ে ওপাশের সব দেখা যায়। মায়া সেই ফুঁটোর দিকে আস্তে আস্তে এগিয়ে গেল। সাবধানে, পায়ে যাতে কোন শব্দ না হয়। ওপাশে তাকিয়ে মায়া দেখতে পেল, বাবা অনেকগুলা ঝালমুড়ি কিনে নিয়ে এসেছে। সেগুলোই তিনজনে ভাগ করে খাচ্ছে। মায়া দেখতে পেল, মারুফ মাসুদের কাছ থেকে এক মুঠো ঝালমুড়ি কেড়ে নিল। তারপর, মাসুদ মারুফকে মারতে গিয়েও পারল না। তার বাবা থামিয়ে দিয়ে বলল, তোরা ঝগড়া করিস না। চুপ করে খা। মায়া জেনে যাবে।


মায়ার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। আল্লাহর কাছে অভিযোগ দেয়, "কেন আমাকে এই পৃথিবীতে জন্ম দিলা। মায়ের সাথে সাথে আমাকেও কেন নিয়া গেলা না? এসব আমার আর সহ্য হয় না।" জোরে শব্দ করে কান্না করা যাবে না। ওপাশ থেকে শোনা যাবে। কি ভাববে ওরা।


সেদিন কান্না করতে করতে মায়া কখন ঘুমিয়ে গেছিলো সে জানে না। মুশারিটাও পাতা হয় নি। মশায় কামড়িয়ে কিছু কিছু জায়গায় লাল করে ফেলেছে। ক্ষুধাও লেগেছে প্রচন্ড। বাবাও উঠে নি। উঠেই তো বলবে, কিরে! ভাত কই? তরকারী কই?

মায়া চাল ধুয়ে চুলায় ভাত বসিয়ে দিল। ভাত হওয়ার পর শিমের মাঁচা থেকে শিম পেরে তা দিয়ে তরকারী রান্না করল। নিজে কিছু খেল। তারপর ভাত আর তরকারীর পাতিল সুন্দর করে ঢেকে স্কুল ড্রেস পড়ে স্কুলে চলে গেল। আজকে অংক বাড়ির কাজটা করাই হলো না।


একটা সুসংবাদ। আজকে ফারজানা ম্যাডাম স্কুলে আসে নি। অংক ক্লাশটা আজকে হলো না। মায়া অনেক খুশি। একটা দিন সময় পাওয়া গেলো। আজকে যেভাবেই হোক অন্য কারো কাছ থেকে অংকটা বুঝে নিতে হবে।


টিফিন পিরয়ড। এই সময়টা অনেকেই টিফিন খায়। আবার অনেকেই ফুটবল নিয়ে মাঠে নামে। ত্রিশ মিনিটের জন্য খেলা হয়। মায়া বসে বসে ছেলেদের ফুটবল খেলা দেখে। ছেলেদের মধ্যে সঞ্জয় ছেলেটা অনেক ভালো খেলে। ও নাকি বড় হয়ে বিশ্বকাপ খেলবে। কতো স্বপ্ন ওর।


মায়া আনমনে বসে খেলা দেখছে। এমন সময় মায়া দেখে, একটা ছেলে মায়ার দিকে দৌড়ে আসছে। ছেলেটা ডাকছে, মায়া আপু, মায়া আপু। মায়া ছেলেটাকে চিনতে পারে। মায়ার এক চাচাতো ভাই হয়। এখনো স্কুলে যায় না। তাহলে ছেলেটা মায়াকে ডাকছে কেন?

মায়া ছেলেটার দিকে দৌড়ে যায়। বলে, কি হইছে রে? এভাবে ডাকতাছস কে?

ছেলেটা হাপাতে হাপাতে বলল, আপু! তোমার আব্বা গাড়ি একসিডেন্ট করছে। হাসপাতালে নিয়া গেছে। অনেক খারাপ অবস্থা। তোমারে যাবার কইছে।

কথাটা শোনার জন্য মায়া মোটেও প্রস্তুত ছিল না। মনে হচ্ছে পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে। ধপাস করে মাটিতে বসে পড়ল মায়া। এখন কি করবে সে?

মায়া ছেলেটাকে বলে, ওই! আব্বা ভালা আছে তো?

- আমি দেহি নাই আপু। সাথে সাতেই হাসপাতালে নিয়া গেছে। মাথা নাকি ফাঁইটা গেছে। তুমি তারাতারি যাও। তোমারে যাবার কইছে।


মায়া সেখানেই কান্না আরাম্ব করে দিল। মায়ার কান্না দেখে আশেপাশের কয়েকটা ছেলেমেয়ে এগিয়ে আসল। কি হয়েছে সেটা জিজ্ঞাস করতে মায়ার চাচাতো ভাই বলে, আপুর আব্বা গাড়ি একসিডেন্ট করছে, হাসপাতালে নিছে।

মায়ার-ই ক্লাশের একটা মেয়ে মায়ার মাথায় হাত দিয়ে বলল, চিন্তা করিস না। ভালা হবো নি। আল্লা আছে। মায়া কান্না করতে কারতে তার চাচাত ভাইকে বলে, ওই! আব্বারে কোন হাসপাতালে নিছে রে?

- সদর হাসপাতারে।

স্কুল থেকে সদর হাসপাতাল ভালোই দূর। যেতেই বিশ মিনিটের মতো লাগবে। কিন্তু মায়া সেখানে কিভাবে যাবে? কে নিয়ে যাবে তাকে?


মায়ার সহপাঠিরা তাকে ক্লাশে নিয়ে গেল। মায়ার কান্না থেমেছে। কান্না থামার পর সব ছাত্রছাত্রীরা যার যার কাজে ব্যাস্ত হয়ে গেলো। মায়ার কথা যেন একটু সময়ের মধ্যেই সবাই ভুলে গেল। অনেক্ষন ধরেই মায়া খেয়াল করছে, পেছনের ব্রেঞ্চে বসে সুমন নামের খারাপ ছাত্রটা কাগজ দিয়ে কি যেন বানানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। মায়া ব্রেঞ্চ থেকে উঠে সুমনের কাছে গেল। সুমন অবাক হয়ে মায়ার দিকে তাকিয়ে আছে। 

মায়া বলল, ওই! তর তো অনেক ইচ্ছা তর সাইকেলে মেয়েদের বসিয়ে ঘুড়াবি। তাইলে আমারে আইজকা একটা জায়গায় নিয়া যাবি?

সুমন বলল, কনে?

- সদর হাসপাতালে?


বাতাসের গতিতে সাইকেল চালাচ্ছে সুমন। পেছনে মায়া। ছেলেটা এতো সুন্দর সাইকে চালায় এটা হয়তো কেউ আগে জানত না। সুমন সামন থেকে মায়াকে বলে, ওই! ধইরা বয়। ঝাকি খাইয়া পইরা যাবি।

মায়া ধরার জায়গা পায় না। ঝাকি লাগলে যখন সুমনের শার্ট চেপে ধরে। সুমন তখন বলে, শার্টটা ছিরিসনা বাল।

মায়া বলে, আর কতক্ষন লাগবো রে?

- জানি না আমি।

- পেছনে মেয়ে মানুষ বসাইয়া তোর দাম বাইরা গেছে দেখছি। লাফ দিয়া নাইমা যামু কিন্তু।

- আর দশ মিনিটের মতো লাগবো।

- তারাতারি যা একটু।


সদর হাসপাতালে যাওয়ার পর জানা গেল তার বাবাকে ইমার্জেন্সিতে নেওয়া হয়েছে। অনেক খারাপ অবস্থা। অসুধপত্রের সমস্ত খরচ মায়ার এক চাচা দিয়ে দিয়েছে। সেটা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। মায়ার চাচা যাওয়ার সময় বলে গেছে, তুই তর বাবার এইখানে থাক। তর বাবার খেয়াল রাখবি। আর এই কয়েকটা টাকা রাইখা দে। কোনো কিছু লাগলে কিনিস।

রাতের দিকে ডাক্তারেরা জানাল, তার বাবা এখন ঠিক আছে। তবে পায়ের একটা হাড় ভেঙে গেছে। সেটা পুরোপুরি ঠিক হতে মাসখানিক সময় লাগবে। তারপর আর কিচ্ছু হবে না।


মায়া তার বাবার কাছে গিয়ে বসল। তারপর বলল, এহন কেমন আছ বাবা?

সুজন মিয়া জবাব দিলো, ভালো। তুই এইহানে আসলি কেমনে রে?

- তোমার বিপদ হইলে আমি আমু না, এইডা হয়?

- তর ভাইয়েরা কই রে?

- ভাইয়াগোরে তো দেহি নাই। মনে হয় বাড়িতে আছে। বাড়ি খালি তো তাই। আব্বা, তোমার খিদা লাগে নাই? কিছু খাবা?


মায়ার এই কথাটা সুজন মিয়ার বুকে তীরের ফলার আঘাত করে। মনে মনে ভাবে, এই মেয়েটারে আমি অনেক রাইত না খাওয়াইয়া রাখছি। অনেক ইচ্ছা পুরণ করিনাই। এই মেয়ে আইজকা আমারে খাবার কয়?

সুজন মিয়ার চোখে দরদর করে পানি বের হয়ে আসে। তারপর মায়াকে বলে, আমার ক্ষিদা লাগবো নারে মা। আমারে স্যালাইন দিছে। স্যালাইন দিলে আর ক্ষিদা লাগে না।


তারপর দুজনেই চুপ। মায়া তার বাবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। মায়া তার বাবাকে আগে কখনো হাত বুলিয়ে দেওয়ার সাহস পায় নি। আজকে পাচ্ছে।

সুজন মিয়া যখন ছোট ছিল। মাঝে মাঝে জ্বর আসতো। তখন তার মা তার মাথায় এভাবে হাত বুলিয়ে দিতো।

সুজন মিয়ার আজকে বড্ড তার মায়ের কথা মনে হচ্ছে। তাই সে মায়াকে বলে, ওই! আমি তর সাথে অনেক খারাপ ব্যাবহার করি তাই না?

মায়া কোন কথা বলে না। সুজন মিয়া আবার বলে, তুই আমাকে মাফ করে দিস বাজান। তোর সাথে অনেক অন্যায় কইরা ফালাইছি আমি।

মায়ার চোখের পানিও আর আজকে আটকে থাকে না। অনেকদিনের জমানো চোখের পানি যেন আজকে বাঁধ ভেঙেছে।

সামাদ নিয়া কাঁপা কাঁপা হাত মায়ার মাথায় রেখে বলে, আজকে থেকে তুই শুধু মায়া না। মায়াপরী। আমার ঘড়ের রাণী।

Comments

Popular Posts