মানুষ কি পৃথিবীর কোন জীব?
নানান বই পুস্তকে ডারউইনের মতবাদ অনেকেই পড়েছি। যেখানে বলা হয়, বিবর্তনের ধারাবাহিতায় অন্যান্য প্রাণী থেকে আস্তে আস্তে আধুনিক মানুষের রুপান্তর হয়েছে। কিন্তু এই ধারণার পথেই বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় কিছু ব্যাতিক্রমতা। সেখান থেকে জন্ম নিতে পারে নতুন একটা ধারণা। মানুষের বসবাস কি তাহলে ভিন্ন গ্রহে হয়েছিলো? পৃথিবী কি তাহলে মানুষের বসবাসের জন্য সঠিক এবং যোগ্য স্থান নয়? মানুষ যে এতোদিন মহাকাশে এলিয়েন খুঁজে পাগলপ্রায় অবস্থা, কিন্তু দেখা গেল মানুষ নিজেরাই একটা এলিয়েন। তাদের জন্ম ভিন্ন কোনো গ্রহে। তারা ভুল করে পৃথিবী নামক গ্রহে আটকা পড়েছে। সেখানেই তারা বাধ্য হয়ে বসবাস করছে।
এই ধারণাটা একেবারে উড়িয়েও দেওয়া যায় না। প্রথমত আমরা কিছু ঘটনা পর্যবেক্ষণ করবো। তারপর নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিবেন আপনি কোনটা মানবেন। মানুষ যে ভিন্ন গ্রহের প্রাণী এটা নিয়ে বিশাল গবেষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. এলিস সিলভার। তিনি তার বই "Human are not for Earth" বইতে নানান বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখাতে চেয়েছেন, পৃথিবী মানুষের জন্য না। ডারউইনের তত্ত্ব অন্যান্য প্রাণীদের বেলায় খাটলেও মানুষের জন্য খাটে না। মানুষ এই গ্রহের কোন প্রাণী নয়। তারা এই পৃথিবীতে এসেছে কোন এক ভুলের কারণে।
প্রথমত আমরা দেখতে পাই অন্যান্য প্রাণীদের থেকে আমাদের পার্থক্য কেমন। যেহেতু বিবর্তন অনুসারে পৃথিবীর প্রতিটা প্রাণীরই অনেকটা মিল থাকার কথা। কিন্তু মিল কই? পৃথিবীর সমস্ত প্রাণী যেখানে চিন্তাশক্তিহীন, সিস্টেম বা ইনস্টিংক-এর বাইরে কোন কাজ করতে পারে না। সেখানে মানুষ তাহলে কেন এতোটা বুদ্ধিমান? হাজারো বোকা প্রাণীদের মধ্যে মানুষ কেন এতটা ভিন্ন?
তাছাড়া আমরা জানি, প্রকৃতি এমন কিছু সৃষ্টি করে না যেগুলি তার নিজের জন্য ক্ষতিকর। তাহলে মানুষ কেন সৃষ্টি হল? যেখানে মানুষই প্রকৃতি ধ্বংসের মূল কারণ? তারমানে এও কি বলা যায় যে, প্রকৃতি নিজেই প্রকৃতির ধ্বংশকারী? যদি তা না হয়ে থাকে, তাহলে মানুষ এই পৃথিবীর জন্য না।
মানুষ কি আদৌ এই পৃথিবীর কোন উপকার করেছে? আর মানুষ বাদে অন্যান্য প্রাণীদের অবদানই বা কী? একটা ধারণা দেওয়া যেতে পারে আপনাদের।
যদি এই মুহূর্তে পৃথিবী থেকে সমস্ত মানুষ চলে যায়, তাহলে পৃথিবী আগের সেই সবুজ শ্যামলতা ফিরে পাবে। দূষণের মাত্র আবার কমে যাবে। পৃথিবী আবার নতুন প্রাণ ফিরে পাবে। কিন্তু যদি এই মুহূর্তে পৃথিবীর সমস্ত পোকামাকড় বিলুপ্ত হয়ে যায় তাহলে কি ঘটবে? পরাগায়ন বন্ধ হয়ে যাবে। গাছপালার প্রজনন বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে গাছের সংখ্যা কমতে থাকবে। বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে অক্সিজেনের পরিমাণ কমতে থাকবে। এর ফলে সামনে যে একটা ভয়াবহ দুর্যোগ অপেক্ষা করবে সেটা স্পষ্ট।
তাহলে এখানে মানুষের অবদান কতটুকু? মানুষ যদি পৃথিবীর উপকার না করে ক্ষতিই করতে পারে, তাহলে পৃথিবীতে কেন মানুষ সৃষ্টি হল? তাহলে মানুষের চাইতে পোকামাকড়ই এই পৃথিবীর জন্য যোগ্য।
পৃথিবীর সকল প্রাণীর কত সুন্দর খাদ্যজাল। একটার সাথে আরেকটার কত মিল। প্রাণীজগতে খুব কম প্রাণীই না খেতে পেয়ে মারা যায়। তাদের খাবার তারা প্রকৃতি থেকেই সংগ্রহ করে। কোনো ঝামেলা নেই। অন্য প্রাণীদের ধরে খাও। গাছের পাতা চিবিয়ে খাও। কোনো রান্নাবান্না, লবণ মিশিয়ে পুড়িয়ে খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। তাহলে মানুষ এখানে কেন ব্যতিক্রম? তারা কেন কাঁচা গাছের পাতা খেতে পারে না। কেন তাদের সকল খাবার রান্না করে খেতে হয়? কেন হাজার হাজার মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যায়?
তারমানে কি আমরা বলতে পারি, পৃথিবী নামক গ্রহ আমাদের মানুষের জন্য যোগ্য নয়? পৃথিবী থেকে আমরা পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নিতে পারছি না।
এই সকল সমস্যার মূল কারণ তাহলে মানুষের বুদ্ধি। বুদ্ধি আছে বলেই আমরা পৃথিবীটাকে ভাগ করে ফেলেছি। তৈরি করেছি মহাদেশ। তৈরি করেছি বৈষম্য। তৈরি করেছি ধনি, দরিদ্র, উচ্চবংশ, ছোটলোক, ক্ষুধার্ত। বুদ্ধি আছে বলেই আমরা না খেতে পেতে মারা যাই?
অন্যান্য প্রাণীদের বুদ্ধি নেই। ওরা তো দিব্বি বেঁচে আছে পৃথিবীতে। অহংকার নেই, ভেদাভেদ নেই। আসলে, ভালোবাসা, অহঙ্কার, জাতপাত এগুলির স্থান পৃথিবী নয়। হয়ত অন্য কোন গ্রহের থেকে আমদানি হয়েছে এগুলো।
একটা পাখির বাচ্চার কথা কল্পনা করুন তো। গাছের উপরে সে বাসা বানায়। বাসায় কোন ছাদ লাগে না। কোন প্রাণীরই থাকার জন্য ছাদ লাগে না। ঘন্টার পর ঘন্টা বৃষ্টিতে ভিজে তারা দিব্বি চলাফেরা করে। তাহলে মানুষেরই কেন বৃষ্টিতে ভিজলে নিউমোনিয়া হয়, সর্দি লাগে? বন্যপ্রাণীরা সারাদিন প্রখর রোদ্রে মাঠে ঘাস খায়। ওদের তো কখনোই সান স্ট্রোক হয় না। তাহলে মানুষেরই কেন প্রচণ্ড রোদে সান স্ট্রোক হয়? মানুষেরই কেন সূর্যের আলোতে চোখ ধাঁধিয়ে যায়? তার মানে এই নয় কি যে মানুষই সবচেয়ে খাপছাড়া জীব এই গ্রহের?
অন্যান্য প্রাণীরা খুবই সহজে বাচ্চা জন্ম দিতে পারে। কারণ মানুষের তুলনায় অন্য সকল প্রাণীদের মাথা ছোট। কিন্তু মানুষের বাচ্চা জন্ম দেওয়ার সময় তার মায়ের মৃত্যুর কথা হামেশাই শোনা যায়। কারণ মানুষের মাথা তুলনামূলক বড়। এক্ষেত্রে মানুষ তাহলে কেন ব্যতিক্রম? মানুষের বাচ্চা জন্মের সময় মায়েরা কেন ব্যথায় জ্ঞান হারান? অন্য প্রাণীদের ইতিহাসে তো এমন নজির খুব একটা নেই।
অন্যান্য প্রাণীদের বাচ্চারা জন্মের কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাঁটা শিখে যায়। হরিণের বাচ্চারা জন্মের পর থেকেই বাঘের ভয়ে দৌড়ানো শিখে যায়। তাহলে মানুষের কেন হাঁটা শিখতে এতো দিন লাগে? মানুষ যদি বিবর্তনের ফলেই সৃষ্টি হতো, তাহলে তার হাঁটা শিখতে এতো দেরি লাগছে কেন?
মানুষের বয়স হয়ে গেলে তাদের জীবনের কোনো এক সময় ব্যাকপেইন হয়। কারণ তার শরীরের পুরো ভার মেরুদন্ড এবং মাজা বহন করছে। যার কারণে জীবনের কোনো এক সময় ঠিকই মাজায় ব্যথা হয়। অন্যান্য প্রাণীরা তো চার পায়ে চলে। ওদের মাজায় অতোটা চাপ পরে না। তাই ব্যথাও হয় না। কেবল মানুষেরই এই সমস্যা কেন হয়? কেন বৃদ্ধ বয়সে সে একেবারে অচল হয়ে যায় যে তাকে সেবা করার জন্য অন্য কোন মানুষের প্রয়োজন হয়?
তারমানে এই বোঝা যায় সে, মানুষ আসলে এই পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরনের সাথে খাপ খেতে পারে না। তাই এরা হাঁটা শিখতে এতোটা সময় নেয় এবং নিজের ওজনটাই নিজের শত্রু হয়ে যায় বৃদ্ধকালে।
তাই ড. এলিস সিলভার তাই দাবি করেছেন, "এ পৃথিবীটা আসলে একটি মহাজাগতিক কয়েদখানা। যেখানে মানুষকে ছেড়ে যাওয়া হয়েছে। মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই হিংস্র ও নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়িয়ে যায়। সম্ভবত মানুষকে এই পৃথিবীতে ছেড়ে যাওয়া হয়েছে যাতে তারা নিজেদেরকে শুধরে নিতে পারে।"
মনে পরে কি একটা কথা? একদিন আদম (আ) আর হাওয়া (আ) কে এই গ্রহে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
Tag: মানুষ কোথা থেকে এলো এর মূল বিষয়, বাংলাদেশের মানুষ কোথা থেকে এলো, মানুষের বৈশিষ্ট্য, মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম কি বাংলা



Comments
Post a Comment