চীনের সংস্কৃতি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, যা প্রায় ৫০০০ বছরের ইতিহাস, কনফুসীয় দর্শন, পারিবারিক মূল্যবোধ, এবং সুশৃঙ্খল সামাজিক রীতিনীতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত। এটি ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ, যেখানে মহাপ্রাচীর, ক্যালিগ্রাফি, চা সংস্কৃতি, এবং উৎসবের (যেমন- বসন্ত উৎসব) পাশাপাশি দ্রুতগতির নগরায়ন বিদ্যমান।
এখন কোন রাষ্ট্রই চাইবে না অন্য কোন দেশের সংস্কৃতির হস্তক্ষেপে তাদের সংস্কৃতি নষ্ট হয়ে যাক। বর্তমানে বেশিরভাগ সোসাল মিডিয়াগুলোই পশ্চিমাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কোন একটা দেশের সংস্কৃতিতে আধিপত্য করার প্রধান হাতিয়ার হলো বর্তমানে সোসাল মিডিয়া। এর দ্বারা কোন দেশের যেকোনো মানুষের আবেগ, চাহিদা সহজেই নিয়ন্ত্রন করা যায়। এখন চীন কখনোই চাইবে না যে তাদের হাজার বছরের সংস্কৃতি এভাবে নষ্ট হয়ে যাক। তাই তারা পশ্চিমা কোন সোসাল মিডিয়া বা অন্য কোন ডিজিটাল পরিসেবা ব্যাবহার করে না। চীনে ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক, হোয়ার্টঅ্যাপ কোনকিছুই চলে না। তারা তাদের দৈনন্দিন কাজে তাদের নিজেদের তৈরি সোসাল মিডিয়া ব্যাবহার করে। যাতে অন্য কোন দেশের সংস্কৃতি তাদের দেশে প্রবেশ করে তাদের সংস্কৃতিতে আঘাত করে।
কিন্তু বাংলাদেশ ডিজিটাল প্রযুক্তিতে পুরোটাই এখন পশ্চিমাদের উপরে নির্ভর করা। তাদের তৈরি প্রযুক্তিতে আমরা এতোটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে, এসব ছাড়া এখন আর আমাদের সময়ই কাঁটে না। এটা বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতির জন্য মোটেও ভালো কিছু না। আমাদের যুবসমাজের বেশিরিভাগই এখন পশ্চিমামুখী হয়ে পড়েছে। তাদের সংস্কৃতিগুলো আমাদের যুবসমাজকে আকৃষ্ট করছে। এরকমটা চলতে থাকলে অল্প দিনের মধ্যেই আমাদের নিজেদের দেশের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য বিলুপ্ত হয়ে সেখানে পশ্চিমা সংস্কৃতির আধিপত্য প্রবল হবে।
এভাবে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশগুলোও যদি এভাবে পশ্চিমাদের উপর নির্ভর হয়ে তাদের নিজেদের দেশে পশ্চিমা সংস্কৃতি ধারণ করে। তবে দেখা যাবে পুরো পৃথিবীটাই পশ্চিমাদের দখলে চলে যাবে। এটা যে এখনো হয় নি। তেমনটাও না। এর ফলাফল আমরা এখনো পাচ্ছি।
তাই দেশের সরকার এবং জনগন যদি চায় নিজেদের দেশটাকে পশ্চিমা প্রভাব থেকে দূড়ে থাকতে, তবে অবশ্যই পশ্চিমা সকল পরিসেবা আমাদের বর্জন করতে হবে। আমাদের দেশেও যথেষ্ট পরিমানে ভালো পোপ্রামার আছে। ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটকের বিকল্প হিসেবে অন্য কোন সোসাল মিডিয়া তৈরি করা খুবই কঠিন কাজ হবে না। দেশের জনগনের উৎসাহ থাকলে ও প্রয়োজনীয় ফান্ডিং পেলে খুব সহজেই এসব কাজ করা যাবে। প্রথম প্রথম হয়তো আমাদের মানিয়ে নেওয়া কিছুটা কঠিন হবে। তবে আস্তে আস্তে অভ্যাস হওয়াটা কঠিন কিছুই না। এতে যেমন বাংলাদেশের উপরে অন্য সংস্কৃতির প্রভাব কমবে তেমনি দেশের প্রযুক্তিখাতে কাজ করার সুযোগ ও আগ্রহ পাবে অনেকে। হয়তো প্রথম প্রথম এই পদক্ষেপটা মোটেও সহজ হবে না। তবে নিজেদের দেশ থেকে অন্য দেশের প্রভাব একটু হলেও মুক্ত করতে চাইলে এমনটা করা খুব জরুরি।
#মোহাম্মদ_আব্দুল_আউয়াল
